Breaking

Sunday, 5 April 2020

শবে বরাতের ফজিলত ও আমল

পবিত্র শব-ই বরাত বা লাইলাতুল বরাত শাবান মাসের ২৪ তারিখ দিবাগত রাতকে শবে বরাত বলা হয়। শবে বরাত শব্দের অর্থ শব মানে রাত, আর বরাত মানে ভাগ্য। পুরো অর্থ আসছে 'ভাগ্য পরিবর্তনের রাত'.  এই বিশেষ রাতে আল্লাহ তার বান্দাদের রহমত দান করে।



শবে বরাত নিয়ে এক হাদিসে উল্লেখ আছে, শবে বরাতের রাতে মুশরিক ও ব্যাভিচারী ছাড়া আর সবার মন বাসনা পূর্ন করা হবে। তাই সবাই একটু কষ্ট করে হলেও এই রাতে আল্লাহর দরবারে হাত উঠায় এবং আল্লাহর কাছে রহমত চাইবো। এবং আমাদের দেশের ও দেশের মানুষের, পরিবার, পরিজনের জন্য দোয়া চাইবো।

এটা হচ্ছে একমাত্র রাত যেটা হাজার রাত্রির ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এই রাতে বান্দার সকল পাপ কাজের প্রার্থনা করার জন্য একটি উত্তম রাত। আমাদের উচিৎ এই রাতে বেশি বেশি ইবাদত করা, নফল নামায পড়া,   জিকির করা,  কুরআন পাঠ করা।

এই দিন সূর্য ডোবার পরে আল্লাহ পাকের নূর সর্বনিম্ন আকাশে চলে আসে। এবং আল্লাহ বলেন কে আছো? গোনাহ মাফ করাতে চাও। কে আছো? মনের ইচ্ছা পূরন করাতে চাও।  কে আছো!  দুঃখ কষ্ট দূর করাতে চাও।
'তাহলে আমার নিকট দুই হাত তুলে মোনাজাত কর'

শবে বরাতের ফজিলত:

হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) হতে বর্নিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা)  নামাযে দাড়ালেন এবংএত দীর্ঘ সেজদা করলেন যে, আমার মনে হলো তিনি মারা গেছে। তখন আমি উঠে তার পায়ের আঙ্গুলে নাড়া দিলাম, তার পা নড়ে উঠলো। অতপর তিনি নামায শেষ করলেন। আমি তাকে জিঙ্গাসা করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ আপনার এই দীর্ঘ সেজদার কারন কী?. উত্তরে নবীজি বলেন, তুমি কী জানো না আজকে কোন রাত? আমি বললাম আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলই ভালো জানে। তখন নবীজি বললেন এটা অর্ধ শাবানের রাত, এ রাতে আল্লাহ তার বান্দার দিকে মনযোগ দেন।ক্ষমা প্রাথীদের ক্ষমা করে দেন।

হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্নিত, নবী (সা) এই রাতে মদিনার কবর স্থান জান্নাতুল বাকিতে এসে মৃত দের জন্য দোয়া করতেন। (তিরমিজি শরীফ. হাদিস: ৭৩৮)

শবে বরাতের নফল নামায ও ইবাদত:


নবীজি বলেন, যখন শাবানের মধ্য দিবস আসবে তখন তোমরা রাতে নফল নামায পড়বে ও দিনে রোযা রাখবে। নফল ইবাদতের মধ্য হলো নফল নামায।প্রতিটি নফল ইবাদতের জন্য নতুন অযু করা মোস্তাহাব। নফল ইবাদতের জন্য দিন থেকে রাত উত্তম।

শবে বরাতের নফল রোজা


রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, শাবানের মধ্য দিবসে তোমরা রাতে নফল ইবাদত ও দিনে রোজা রাখো। এছাড়া প্রতিমাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখ আইয়ামে বিজ এর নফল রোজা তো আছেই। যেটা আদি পিতা হযরত আদম (আ) পারন করতেন।

শবে বরাতের রাতে যে ১১ জনের আমল কবুল হয় না

১, মুশরিক অর্থাৎ যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে কোন প্রকারে শিরক করে।
২, যে ব্যাক্তি কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষনকারী।
৩, আন্তহত্যার পোষনকারী।
৪, যে ব্যাক্তি অপরের ভালো দেখতে পারে না।
৫, যে ব্যাক্তি আন্তীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে।
৬, যে ব্যাক্তি ব্যাভিচারে লিপ্ত হয়।
৭, যে ব্যাক্তি নেশা করে।
৮, যে ব্যাক্তি গনকগিরি করে।
৯, যে ব্যাক্তি পিতা মাতার অবাধ্য হয়।
১০, যে ব্যাক্তি জুয়া খেলে।
১১, টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা পুরুষ।


শবে বরাতের রাতে করনীয়

১, কবর জিয়ারত করতে পারবে, কিন্তু একাকী করতে হবে।
২, রাতে নফল নামায আদায় করা, দোয়া, কোরআন শরীফ পড়া, যিকির করা, ও দূরূদ শরীফ পড়া।
৩, এই রাতে দীর্ঘ সেজদা রত হওয়া।
৪, শবে বরাতের রাতের পরের দিন ১৫ শাবান রোযা রাখা।

এই রাতে মসজিদে একত্রিত না হয়ে একাকী নফল ইবাদত করা উত্তম।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তোমমার ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন

No comments:

Post a Comment